July 1, 2022
Tuesday, 19 April 2022 03:14

নবীগঞ্জে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি করে তথ্য পরিবর্তন, জাল সনদ তৈরি

নিজস্ব প্রতিনিধি

দৈনিক নবীগঞ্জের ডাক 

নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বলাই চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধন তৈরির নামে জনগনকে ভোগান্তি, অফিসে দালাল নিয়োগ, জাল চালান তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন তথ্য পরিবর্তন, জাল সনদ তৈরিসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন দীঘলবাক ইউনিয়ন পরিদর্শন করলে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন অফিস সূত্রে জানা যায়- ২০১৯ সালের ১৮ আগস্ট নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে বলাই চক্রবর্তী যোগদান করেন। যোগদানের পর বলাই চক্রবর্তী অভিযোগ ওঠে। জন্ম-নিবন্ধনের তৈরির ক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম, জাহিদ মিয়া ও আব্দুল হান্নান নামে নিজস্ব দালাল নিয়োগ দেন। তাদের মাধ্যমে জনগণের কাছে থেকে জন্মনিবন্ধন তৈরি নামে সরকারি নিদের্শনা অমান্য করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন সচিব বলাই চক্রবর্তী। জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে দেয়ার নামে অনলাইন আবেদন ব্যতিত জন্মনিবন্ধনের নমুনা তৈরি করে ফটোশপের মাধ্যমে কারসাজি করে চেয়ারম্যান ও সচিবের সিল-স্বাক্ষর দিয়ে তিনি সুবিধাভোগী ইউনিয়নের নাগরিকদের কাছে তা বিতরণ করেছেন এবং অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। জন্মনিবন্ধনের সংশোধনের জন্য অনলাইন সার্ভারে তথ্য সংশোধনের আবেদন না করেই ফটোশপের কারসাজির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করায় পরবর্তীতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জন্মনিবন্ধনে গ্রামের নাম সংশোধন করার জন্য দালালের মাধ্যমে সচিবের কাছে যান। পরবর্তীতে ফটোশপের মাধ্যমে কারসাজি করে সংশোধন করে দেয়া হয় নজরুল ইসলামের গ্রামের নাম। তবে পওে দেখা যায় অনলাইন- সার্ভারে গ্রামের নাম সংশোধন হয়নি। এছাড়াও দীঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বলাই চক্রবর্তী জন্মনিবন্ধনের সরকারি ফি সরকারি কোষাগারে ব্যাংক চালানের মাধ্যমে অর্থ জমা দেয়ার নামেও করেছেন অর্থ আত্মসাৎ। ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সোনালি ব্যাংকের মাধ্যমে জন্ম-নিবন্ধনের সরকারি ফি’র ২০ হাজার ৬শ টাকা সরকারি কোষাগারে হিসাব নম্বরে ব্যাংকে জমা দেন। পরবর্তীতে জালিয়াতি করে ভুয়া ব্যাংক চালান তৈরি করে জমা দেয়া অর্থের পরিমান উল্লেখ করেন- ২৮ হাজার ৫শত ৫০ টাকা। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনে অনিয়ম, বিভিন্ন তথ্য গোপন, হাজিরা খাতায় অনিয়ম, ইউপি সদস্যদের বিভিন্ন সভায় দাওয়াত না দেয়া, জন্মনিবন্ধনে সংশোধনীর ক্ষেত্রে অনলাইনে ভুয়া প্রমান দাখিল, মুসলিম ব্যক্তির নিবন্ধনে হিন্দু ব্যক্তির সনদ প্রমান হিসেবে ব্যবহারেও অভিযোগ সচিবে বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন দীঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শণ করেন। এসময় কাজগপত্র যাচাই বাচাইকালে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। এ প্রসঙ্গে দীঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বলাই চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করেন। এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন- সচিব বলাই চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধন নামে জনগনকে ভোগান্তি, অফিসে দালাল নিয়োগ, জাল চালান তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন তথ্য পরিবর্তন, জাল সনদ তৈরি, ভিজিএফের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সচিবের বিরুদ্ধে বরখাস্তপূর্বক বিস্তারিত লিখে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করা হবে।

Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular