August 17, 2022
Wednesday, 15 January 2020 14:46

চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড নিয়ে পুলিশকে বিভ্রন্ত করছে প্রভাবশালী মহল এ কেমন পাষন্ড! ক্ষোভ আর রেশ মেঠাতে নবীগঞ্জে আপন মেয়েসহ একের পর এক হত্যাকান্ড

✍ মোঃ আলাল মিয়া নবীগঞ্জ :

 এ কেমন হত্যাকান্ড! একের পর এক হত্যা করে ক্লান্ত নেই ঘাতকরা। প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়ে কেউ নিজের মেয়েকে হত্যা, আবার কেউ আপন ভাইকে হত্যা করে অর্ধশতাধিক লোকজনকে আসামী দিয়ে মামলা করে। ঐ মামলার ভয়ে আসামী পক্ষের লোকজন বাড়ি ঘরে না থাকার কারণে অনেক কৃষকের গরু, ছাগল, হাস, মুরুগ, ধান চাল, নগদ টাকা ও দামী আসবাবাপত্রসহ দিনে দুপুরে লোকজনের চোখের সামনে লুটে নেওয়ার ঘটনা অহরহ রয়েছে। এই হত্যাযজ্ঞ ঘটনার মামলা থেকে রেহাই পেতে অনেকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে হত্যা মামলার বাদীদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য যে, বিগত ২০১৯ সালের ৬ই নভেম্বর বানিয়াচং উপজেলার উজিরপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয় বজলু মিয়ার ছেলে ফজল মিয়া। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মাখন মিয়াসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ১০ই নভেম্বর বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পরিবার। আসামী পক্ষের লোকজন বিজ্ঞ আদালতে ফজল মিয়া হত্যাকান্ডের দায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করে। এই হত্যাকান্ডে বেকায়দায় পরে যায় মাখন মিয়াসহ অপরাপর আসামীরা। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পনা করে মাখন মিয়া। তার দলবল নিয়ে মজিদ মিয়ার বাড়িতে গোপন বৈঠকে মাষ্টার প্লান করেন। বৈঠকে সহজ সরল প্রকৃতির লোক ভগ্নিপতি মাখন মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা শ্যালক কামাল উদ্দিনকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১ম পরিকল্পনা করা হয় ২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর বানিয়াচং থানার সীমান্তবর্তী নবীগঞ্জ থানার অন্তরগত লহরজপুর গ্রামের হাওড়ে। ওই দিন তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে ১৬ই ডিসেম্বর রাতে মাছ ধরার প্ল্যান করে কামাল উদ্দিনকে হাওড়ে পাঠিয়ে হত্যার পরিকল্পনা নেয়া হয়। সে মোতাবেক ভগ্নিপতি মাখন মিয়া প্ল্যান অনুযায়ী কামাল  উদ্দিনকে লহরজপুর হাওরে পাঠানো হয়। সেখানে শাখাবরাক নদীর পাশে ধান ক্ষেতে কামাল উদ্দিনকে পিছন দিক থেকে ধরে ফেলে শরীফ। এ সময় প্রথমে লেবু মিয়া পিকল দিয়ে কামালের বুকে ঘাই মারে। এক পর্যায়ে মাখন, ফারুক, অনুসহ সঙ্গীয় লোকজন উপর্যুপুরি আঘাত করে। এ সময় হামলাকারীরাই চিৎকার করে প্রতিপক্ষের লোকজন কামাল উদ্দিনকে মেরে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে স্থানীয় লোকজন কামালকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে নেয়ার পথে কামাল মৃত্যুবরণ করে। ঘটনার তিনদিন পর নিহতের বোন বাদী হয়ে ২৭ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে থানা পুলিশ। এরপর থেকেই গাঁ-ঢাকা দেয় বাদী পক্ষের লোকজন। এতে করে সন্দেহের তীর দেয়ে যায় বাদীপক্ষের দিকে। ৭ই জানুয়ারী সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার গুচ্ছগ্রাম থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফারুক মিয়া নামে আটক করা হয় এক ব্যাক্তিকে। আটককৃত ফারুক মিয়া কামাল হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে জবাববন্দি দেয়।
এ ব্যাপারে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে, কামাল হত্যাযজ্ঞর লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ দিয়ে এলাকার এমদাদুল হক, নুরুল ইসলাম, আবুল কালাম, কাচন আলীসহ অর্ধ শতাধিক লোকজন বলেন, মাখন মিয়া, অনু মিয়া, জিয়াউর, আহমদ আলী গংদের অত্যাচারে আমরা গ্রামবাসী অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। দিন দুপুরে ঘর-বাড়িতে ডুকে গরু, ছাগল ছিনতাইসহ দামী মালামল লুটপাট করে আসছে অহরহ। তাদের বিরোদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস নেই। নিজের পরিবারের লোকজনকে একের পর এক খুন করে হত্যা মামলায় অভিযোক্ত করছে গ্রামের সাধারন লোকজনকে। তাদের এহেন কর্মকান্ডে অনেকেই বাড়ি-ঘর, স্ত্রী- সন্তান ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মামলার বাদী কামালেরর আপন বোন আনোয়ারা খাতুন সাথে আলাপকালে তিনি জানান, তার ভাই কামাল হোসেন সহজ সরল প্রকৃতির লোক ছিল। তার স্বামী মাখন মিয়া হত্যা মামলায় পালিয়ে থাকার কারণে তার ভাই কামাল মিয়া রিক্সা চালিয়ে সেসহ তার ৬ সন্তানের বরণ পোষন বিগত ২ মাস ধরে চালিয়ে আসছিল। মৃত্যুর ১৫ পূর্বে আমার কোলজুড়ে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। কামাল খুব যতœ নিত আমার এবং আমাকে খুব ভালবাসতো। আমার ভাই বিহনে ৬ শিশু সন্তানকে নিয়ে অনাহারে দিন যাপন করেছি। কেউ আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়না। আমি এবং আমার মা আমার ভাই কামালকে বিয়ে করানোর জন্য বিভিন্ন স্থানে কন্যা খোঁজছিলাম কিন্তু বিয়ের আগেই ঘাতকরা নির্মমভাবে আমার ভাইকে খুন করেছে। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারা খাতুন বলেন, আমার স্বামীর বোন লুৎফাসহ আরো কয়েকজন আমাকে বলে, আমি নাকি আমার ভাইকে খুন করেছি। এই খবর দিয়ে আমাকে হবিগঞ্জ শহরে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে ছবি তুলে। এ ব্যাপারে আমি আর কিছু জানিনা। ওরা একের পর এক আমার ভাইয়ের হত্যা নিয়ে নানা ধরনের নাটক ও হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। আমরা গরীব মানুষ হওয়ায় আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নাই। পুলিশ কোন হুমকি বা টাকা পয়সা চেয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তবে, গত ৯ জানুয়ারী কামাল হত্যাকান্ড নিয়ে নবীগঞ্জ- বাহুবলের সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম নবীগঞ্জ থানায় প্রেস-বিফ্রিং করেন। প্রেস-বিফ্রিংয়ের খবর পেয়ে কামাল হত্যা মামলা কে ভিন্নখাতে প্রভাহিত করতে মাখন মিয়ার বোন লুৎফাসহ আরো কয়েকজন মিলে কামাল হত্যা মামলার বাদী আনোয়ারা খাতুনকে ভাই হত্যা মামলায় জড়িত বলে ভয়ভীতি দেখায় এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার নাম ও ছবি বিকৃত করে কামাল হত্যা মামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে নবীগঞ্জ থানার ওসি ও ওসি অপারেশনের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে । এ বিভ্রান্তিকর সংবাদে পুলিশ সহ সুশিল সমাজের লোকজন বিচলিত।
এ ব্যাপারে কামালের মা বৃদ্ধা মুর চাঁন বিবি বুক ফাটা আর্তনাত করে বলেন, আমার এক ছেলে খুনের মামলায় জেলখানায়। আর যে ছেলে আমাকে ভরন পোষন ও আহার তুলে দিত সেই ছেলেকে পাষন্ডরা নির্মমভাবে খুন করেছে। আমার ছেলের খুনের সাথে যে বা যাহারা জড়িত আমি তাদের ফাঁসি দেখে মরতে চাই। 

Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular